শব্দকুঞ্জ কুয়াশাচ্ছন্ন শৈশব সংখ্যা
কবিতার প্রহর
শব্দকুঞ্জ
কুয়াশাচ্ছন্ন শৈশব সংখ্যা
কবিতার
প্রহর
হিম হিম কুয়াশায়
…
গোবিন্দ মোদক
কুয়াশায়
আচ্ছন্ন দেখো চারিধার
ফুলতলী,
বাঁশবন, দিঘিটার পার।
সূর্য
উঠেছে তবু যায় নাকো দেখা
নদীতীরে
পাকুড়টা কুয়াশায় একা।
এরই মাঝে
গোরু নিয়ে যতো চাষীভাই
লাঙ্গলটা
সাথে করে কৃষিকাজে যায়।
হলুদ ফুলেতে
ভরা সরিষার ক্ষেত
পাশে তার
নুয়ে আছে ঝোপঝাড়-বেত।
ছোলা ক্ষেত
হিমহিম ভেজা কুয়াশায়
অফিসবাবুরা
দ্রুত স্টেশনেতে যায়।
ঘরে বসে
একা ছেলে পড়ে বই নিয়ে
গুটিসুটি
শুয়ে ভুলো, ঝিম মারে টিয়ে।
মা-কাকিমার
দল — তবু কুয়াশায়
ঘড়া নিয়ে
দল বেঁধে পুকুরেতে যায়।
শীতের
কুয়াশা-মাখা ঝিমধরা পৌষ
এই শীতে
বাঘ কাঁপে, কাঁপে গোরু-মোষ।
(নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
লেপের ভেতর থাকবো পড়ে
রানা জামান
একটা না মা লাগবে আরো
দুটো তিনটে চার?
না না! মাগো আরো লাগবে
করো দশটা পার!
এবারের শীত নয় শীত মাগো
মেরুর বরফ হিম,
হাতটা একটু করলে বাহির
মাথায় ধরে ঝিম!
গোসল করতে বলছো আমায়!
দেবে গরম জল?
গোসলের পর গায়ে চাপতে
করে না শীত ছল!
লেপের ভেতর ঢুকবে তুমি
বার করবো না মুখ,
গরম খাবার মুখে গেলে
লাগে অনেক সুখ।
শীত না কমলে ইস্কুল ছুটি
লেখাপড়া বাদ,
লেপের ভেতর থাকবো পড়ে
লেপ-ই মাথার ছাদ!
(ঢাকা, বাংলাদেশ)
চৌকাঠ
অনন্ত পৃথ্বীরাজ
শীতে কুয়াশার ক্রীম মেখে
জোনাকি মেয়েরা হেঁটে যায়।
বুকের ভেতর তখন নতুন স্বপ্ন
উঁকিঝুঁকি দেয় রাত-বিরাত।
স্কুলদিনের পর কলেজ শুরু
হলে
হঠাৎ বয়সের নদীতে প্লাবণ
আসে
মেয়েরা নারী হতে চায় পুরুষের
বুকে
ছেলেরা তিলক পরে এগিয়ে যায়।
সমাজ সংসারের ছিটকানির বড্ড
করা,
একবার বাঁধা পড়ে গেলে বিপ্লবের
স্বপ্ন-
মিশে যায় দরজার চৌ-কাঠে।
(পশ্চিমবঙ্গ,
ভারত)
লাউ চোর
স্বপন শর্মা
.
আজ ভোরে খুব জোরে, কেশে
ওঠে জগা
চেয়ে দেখি করে সে কি!
খোঁজে লাউডগা
চুরি ক’রে, ঝুরি ভরে-
কেটে রাখে কদু
সাড়া পেয়ে ধেয়ে আসে
লাঠি হাতে যদু।
যদু বলে-“পুরো
মাচা, করে দিলি খালি
সবে নিলি যতো ছিল, ছোট
বড়ো জালি
ওরে জগা বড়ো হয়ে, হবি
পাকা চোর
আয় দেখি কে কি বলে বাবা
কাকা তোর?”
জগা বলে- ‘বাবা কাকা!
ওরা খুব ভালো
লাউ নিতে পাঠে দেন- রাত
হলে কালো।’