শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
আরেফিন অনু’র একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
আরেফিন অনু’র একগুচ্ছ কবিতা
মৃত্যুর আগে কিছু আলো
রক্তের দাগ মুছেও সন্ধ্যার আকাশে নীল নূপুরের শব্দ থাকে;
পৃথিবী তখনও ঘাসের ডগায় শিশির মেখে
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে এক অচেনা মেয়ের মতো।
শীতের কুয়াশা কাঁপতে কাঁপতে বলে যায়
অর্ধ শোনা কিছু একান্ত বাক্য;
লোভের আগুনে জ্বলে ওঠে মানুষের ভিতরকার অন্ধকার,
তবু দূরে কোথাও
কারও বুকের গভীর থেকে উঠে আসে
অস্পষ্ট, কাঁপা একটি কান্না।
পথ আসলে সরলই ছিল—
তবু মাঝপথে হঠাৎ ফুটে ওঠে অদ্ভুত সব ফুল,
কারও চুলে জড়িয়ে থাকে রাতের গন্ধ,
কারও চোখে জমে ওঠে অচেনা নক্ষত্রের জল।
তখন মানুষ ভুলে যায় শেষের ঠিকানা
মুগ্ধ হয়ে হাঁটে সেই অচেনা আলোয় ভরা পথে; অতঃপর
ফিরে তাকিয়ে একদিন সেই দীর্ঘ ভ্রমণকে
নরম কণ্ঠে ডাক দেয়..
অনির্দিষ্ট গন্ধতত্ত্ব
০১
একাঙ্গী—
নাম নয়,
একটি গন্ধের অসম্পূর্ণ সমীকরণ
যেখানে সত্য বসালে
ছলনা জন্মায়।
০২
রাত্রি নিজেকে প্রমাণ করতে গিয়ে
ভিজে যায়—
মেঘের ভেতর সংরক্ষিত কফিনগুলো
ক্রমশ হালকা হয়ে
বৃষ্টির মতো পতিত।
০৩
একটি আলো ছিল—
পুলিশ নাকি স্মৃতি
নির্ণয় করা যায়নি,
কারণ প্রতিটি ঝলকে
একটি ভিন্ন অপরাধের আভাস।
০৪
রাস্তা = অনুপস্থিতি
পদচিহ্ন = অস্থায়ী স্বীকারোক্তি
জল = সব প্রমাণের অভিন্ন শত্রু
০৫
“ফিরব না”—
উচ্চারণের সাথে সাথে
একটি ঘর নিজেকে মুছে ফেলে,
অতঃপর বাতাস
তার উত্তরাধিকার গ্রহণ করে।
০৬
ঘুম এখানে নিস্তব্ধ নয়—
বিদ্যুৎ-আক্রান্ত বৃক্ষের মতো
অভ্যন্তরে জেগে থাকে,
প্রতিটি স্বপ্ন
নিজের বিপরীত ভাষায় লেখা।
০৭
“তুমি”—
সম্ভবত একটি সর্বনাম নয়,
বরং গন্ধের একটি কেন্দ্র
যাকে ঘিরে
সব দিকনির্দেশ অকার্যকর।
০৮
শেষতক,
একাঙ্গীর উগ্রতা
সব শপথের উপরে একটি দাগ টানে—
যা মুছতে গেলে
আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আরেফিন অনু। কবি, প্রতিষ্ঠাতা চারুগৃহ শিশুস্বর্গ স্কুল, ঝিনাইদহ