শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
অনন্ত পৃথ্বীরাজ এর একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
অনন্ত পৃথ্বীরাজ-এর একগুচ্ছ কবিতা
প্রতিলিপির পাঠোদ্ধার
সময়ের রাহুচক্রে পরিভ্রমণ করে
আমরা পেরিয়ে এসেছি দশ-দিগন্ত;
স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে দেখি-
প্রতিদিন অজোগরের মুখে-সাপলুডু
খেলার নামে আমাদের প্রতারিত করা হয়।
মানুষের ইতিহাস খুবই অল্পদিনের, তারও
বহুকাল আগে বিশ্বে প্রাণের স্পন্দন ঝাপ্টে
ধরেছে মাটির আকরিক। খোদাই করা
প্রতিলিপির পাঠোদ্ধারের পরে যা পাবে-
তা সবই প্রাগৈতিহাসিক সত্য।
নৃ-তত্ত্ব বিশ্লেষণে দোঁ-আশ মাটি আমাদেরই
শরীরের অবয়ব। হাড়-গোড়, ত্বক, চামড়া-
অথবা ভূ-মণ্ডলের উপরিভাগ।
চরকগাছটি নাচছে
দেহের ভিতর প্রবহমান এক খরস্রোতা নদী
কূল-কিনারহীন অথৈ জলে
নাচছে একটি চরকগাছ।
কৃত্রিম হ্রদের বাহানা তুলে প্রেস ক্লাবে সংবাদ
সম্মেলন করেছে আমাদের আম পাবলিক।
অথচ কাঁটাতারে নিষ্প্রাণ ফেলানীকে ঝুলিয়ে দিয়ে
বিনা বিচারে পুলিশ ফারাক্কায় আটক
করেছে কতগুলো নিরীহ তপসী মাছ।
কতদিন নদীগুলো ড্রেজিং করা হয় না,
ড্রেজিংয়ের টাকায় হরিলুটের মচ্ছব চলে;
আর বাইরে শুধুই হা-হুতাশের আইওয়াস।
নদীগুলো মরে যাচ্ছে ক্রমিক…..!
ভীমরুলের ‘৭১
সেইসব অশ্রুসিক্ত দিনগুলোর কথা মনেপড়ে
চোখের সামনেই কতখুন, রক্তের স্রোতধারায়
পদ্মা-মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা প্রবহমান নদী।
আমার বাবা-মা, ভাইবোনের লাশ রাস্তাঘাটে,
জঙ্গলের আনাচে-কানাচে পড়েছিল বেওয়ারিশ;
কুকুরে টেনেছে, শিয়াল-শকুনে ছিঁড়েছে কতকটা,
ওরা বদ্ধভূমিতে কাফন-দাফনহীন পচে নিঃশেষ।
আমার পরমপ্রিয় আত্মীয় পরিজন-পূর্বপুরুষ
দাদা-দাদি, বাবা-মা, চাচা-চাচি, ভাই-বোন একদিন-
এই দেশেরতরে জীবন দিয়েছিলেন নিঃস্বার্থে।
কবি ও এমফিল গবেষক