শব্দকুঞ্জ ঈদুল আযহা সংখ্যা-২০২৬
গোলাম কিবরিয়া পিনু’র একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ ঈদুল আযহা সংখ্যা-২০২৬
গোলাম কিবরিয়া পিনুর একগুচ্ছ কবিতা
সৌন্দর্য
উঁকি দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি—
তোমার উঠানে ফুটেছে ঝুমকোজবা!
নাকি তুমি ফুটেছো?
দ্বিধা থাকে না—
থাকে অস্থিরচিত্ততা
বিভোল হওয়ার মুগ্ধতা!
নিকটতা না থাকুক
মনশ্চক্ষু নিয়ে
তাকানোর স্পর্ধা আমারও আছে!
গাছে ফুটে ওঠা সৌন্দর্য
পরিস্ফুট হলে—
দৃষ্টিশূন্যতা থাকে না অন্ধেরও!
নিজের সমুদ্র
ও মেয়ে—
তুমি বিষণ্নতায় ভুগছো
কোন& বদ্বীপে গিয়ে!
একটু হাসো—
টোল পড়ে তোমারও গালে
দূর বেলাভূমিতে কেন থাকবে পড়ে—
তোমার কি উচ্ছলতা নেই?
নিজের গাছের তলায় দাঁড়াও—
অতিক্রম করো বালুকাবেলা,
কোন& ঘোড়ায় চড়বে—নিজেই চূড়ান্ত করো।
নিজের প্রস্ফুটিত কেতকীনির্যাসে
নিজেকে ফুরফুরে করে রাখো,
আজ অন্তত বিষণ্নতা ঢাকো।
আছড়ে পড়ো নিজের ঊর্মিমালা নিয়ে
নিজের সমুদ্রে!
সবিশেষ
আবেষ্টনীর ভেতর থাকতে থাকতে
আবিষ্কার হলো না নদীও!
নদীটা বরফে ঢেকে ছিল
হাঁটাপথে দূরে!
সেখানে পারিনি যেতে—মেতে উঠলাম কীসে?
কুলুপে কুলুপে আটকানো বাঁশে তৈরী ঘর
ঘুণে ধরে ধরে শেষ হলো!
তবুও আমার দু’পা মেলা হলো কই?
উঠানেই গলাধঃকরণ—উঠানেই নবজাতক বরণ
উঠানেই সবিশেষ বাঁচা!
চতুষ্পদ গাধাও উঠানে থাকে না সবসময়ে
গর্ভপতনের জন্য সে-ও দূরে যায়!
জলবিহার
ˆশবলিনী—
তোমার কাকচক্ষুর মতন নির্মল জল,
জলবিহারে এসে খুঁজি
—জলমগ্ন হই।
আমি তো দূর দরিয়ার কাছে
যেতে পারবো না,
তোমারই কাছে বারবার ফিরে আসি।
বালুবেলা ও তটপথ পার হয়ে আসি।
জলকাদা মেখে আসি
বর্ষাভেজা হয়ে আসি,
কালিঝুলি অবস্থা তখন থাকে না!
তোমারই কুললগ্ন আমি
তোমারই জলকল্লোল চিনি,
তোমারই তরঙ্গতাড়নে—
তরঙ্গায়িত হই।
অভিলাষ
আমি তো অনেক আগে
আমার দু’চোথ বেঁধে ফেলেছি!
আমি এখন কিছুই দেখি না—
তন্ত্রমন্ত্র এখন নিয়ে যায়
দু’পায়ে হাঁটায়!
অন্ধতার কাছে রেখে দিয়েছি হৃদয়
মস্তিষ্ক তো চোখ বাঁধবার পরপরই
অকেজো হয়েছে!
বুদ্ধি ও বিবেক এখন পাথর—
নাকের সামনে কী গন্ধ লাগানো এক কাঠি ধরা হয়েছে
সেই গন্ধে মাতোয়ারা হলাম আমিও!
কালো কাপড়ে বাঁধানো আমার দু’চোখ
এখন ভোরবেলায়—
সমুদ্র সৈকতে গিয়েও খুলতে পারি না,
সমুদ্র যে দেখবো—
সেইটুকু আগ্রহ ও অভিলাষ নেই!
গোলাম কিবরিয়া পিনু , মূলত কবি। প্রবন্ধ, ছড়া ও অন্যান্য লেখাও লিখে থাকেন। গবেষণামূলক কাজেও যুক্ত। গোলাম কিবরিয়া পিনু-এর জন্ম ১৬ চৈত্র ১৩৬২ : ৩০মার্চ ১৯৫৬ গাইবান্ধায়। গাইবান্ধা শহরে মূলত শৈশব-কৈশোর কেটেছে। পড়েছেন গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, এর পর মাধ্যমিকগাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ে, এর পর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা : স্নাতক সম্মান (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য) এবং স্নাতকোত্তর; পিএইচ.ডি. । ১৯৮৩ থেকে ধারাবাহিকভাবে ঢাকায় বসবাস করেন। লিখছেন তিন দশকের অধিককাল। এর মধ্যে কবিতা-ছড়া-প্রবন্ধ ও গবেষণা মিলে ২৬টি গ্রন্থ বের হয়েছে–বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে। বিশ্ববাংলা কবিতা, উত্তম দাশ, মহাদিগন্ত, কলকাতা, ২০১৩, পৃষ্ঠা-১৪৩ কবিতার বই ছাড়াও তাঁর ছড়ার কটি বই আছে। আছে বাংলা নারীলেখকদের নিয়ে গবেষণা গ্রন্থ, যা বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এই গ্রন্থে নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠা থেকে নারী লেখকদের সৃজনশীলতা ও বাংলা সাহিত্যে তাঁদের অবদান বিশেষভাবে এসেছে। নারী লেখকদের সাহিত্য-ভূমিকা, সৃজনশীলতা, জীবনচেতনা, আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও ভূমিকার বিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই গ্রন্থে ধরা পড়েছে । এছাড়া অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধের বইও রয়েছে। শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর-সহ ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধেও তাঁর রয়েছে ভূমিকা। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী প্রতিবাদ-কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত প্রথম ছাত্র মিছিলে নেতৃত্ব দান, ১৯৭৫-৭৭ পর্যন্ত হুলিয়া ও গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। সে-সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কবিতা লেখা ও তা ‘সাপ্তাহিক মুক্তিবাণীসহ অন্যান্য সংকলনে ছাপা। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী ও ধর্মান্ধ-মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে ধারাবাহিক ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে বাংলা একাডেমির জীবনসদস্য ও এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ-এর সদস্য। এখনো কটি সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন সংগঠন থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। পেশাগত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রয়োজনে ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, বলিভিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ পর্যন্ত একটি আর্ন্তজাতিক মিডিয়া বিষয়ক সংস্থা ‘ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড’-এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করেছেন। এর আগে এফপিএবিতে উপপরিচালক (এডভোকেসি), ফোকাল পয়েন্ট ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া এফপিএবি থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘সুখী পরিবার’-এর সম্পাদক হিসেবে ১৯৮৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বিসিসিপি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও যুক্ত ছিলেন। পেশাগতভাবে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকতা, কলামলেখা, সম্পাদনা ও এডভোকেসি বিষয়ক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকেছেন।