শব্দকুঞ্জ কুয়াশাচ্ছন্ন শৈশব সংখ্যা
গৌতম তালুকদার এর একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ কুয়াশাচ্ছন্ন শৈশব সংখ্যা
গৌতম তালুকদারের একগুচ্ছ শীতের কবিতা
পৃথিবীর কাছে জানতে চাই
পৃথিবীর কাছে জানতে চাই
চুপ করে বসে আছে কেনো যুবক ?
গ্রেপ্তার করো,
উড়ছে যতো উরুকু মাছেরা,
বুঝুক ওরা সূর্যের কতো তেজ
অশান্ত ঢেউয়ের নোনা সাগরে।
ঝিনুক মণিমুক্তা শঙ্খ মালার ভান্ডার
লুটে নেয় যে সকল লুটেরা
এবার তাদের হাত কড়া পড়াও।
পৃথিবীর কাছে জানতে চাই
বিবেক,মানবতা কোথায় রেখেছ ?
ফিরিয়ে আনো,
মাটির দ্বিতীয় শরীর হয় না
তবু কেনো মাকে ভাগাভাগি
যে বীজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে
ঝাঝরা করছে শত বুক
সে বুক তো মায়ের
কোন অপরাধে কাঁদবে মা শূন্য বুকে ?
চক্র
১.
মধ্যে গগনে চাঁদ
নক্ষত্রের কালপুরুষ,ধনুক সজ্জায়।
আম,জাম,নারিকেল,কাঁঠাল
সুপারি,বট,হিজল,
ইউক্যালেপ্টাস,অশ্বত্থ,পাকুড়,
শীত বয়ে আনে নদীর আলিঙ্গনে।
মরুদ্যানে নাচে বাতাসের নটরাজ
বালিয়ারী খুঁজে পায় নৃত্যের ছন্দ
পাহাড়ের পাদদেশ ছিন্ন করে
ঝর্না যুবতী বেশে
ছুটে যায় সাগর সঙ্গমে।
২.
সপ্ত প্রদী তারার সাথে সুখ বিনিময়
একাদশী,পূর্নিমায় গোঁসাই বরণ।
দিবালোকে তরু লতার গোধূলিগমন
চন্দনের তিলক কাটে সূর্যাস্ত কালে।
৩.
ভাগ্যে দাতা,চিত্র গুপ্ত মিলে মিশে
কুষ্টি লিখে দেয় মানব প্রভু দয়ের হাতে।
তিথি নক্ষত্রের বিধি নিষেধে
এ দেহ নশ্বর হলেও বসবেনা প্রজাতি ভ্রমর।
৪.
বেঁচে আছি ফুল ফোটা দেখে
দুধে আলতায় মেশানো
টোপ পড়া গাল ছুঁয়ে
মায়ার বাঁধনে বেঁধে ভেসে যেতে উজানে।
নিয়ে যায় ওরা দূরে বহু দূরে
সেখানেই হয়তো জীবন
অন্ধকার থেকে আলোর ঠিকানা যেখানে।
৫.
ধর্মের চশমায়
অনেকেই চলে যায় ফিরে আসে না !
ঋণী হয়ে থাকি কেবল,
সুযোগ হয়না জানা বোঝার।
চিতা কাঠের অসময়ের ডাকে
সচ্ছ আকাশ ঢেকে যায় মেঘে মেঘে
কুসংস্কারে বাড়ে না কিশলয়,
সামিনায় ঢেকে দেয় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
এভাবে হারাতে হারাতে
শূন্য ময়দানে খালি কলস বাজে,
আখেরে ব্যাস্ত বটতলার প্রতিভা।
জ্ঞানের শিকড়ে ছিল যে প্রতিবাদ
অবশেষে নেই তার কিছুই আজ
প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে কালো হাত
পন্ডিত বনে যায় ধর্মের চশমায়।
গৌতম তালুকদার
৫১, প্রতাপ গড় যাদবপুর
কোলকাতা -৭০০০৭৫
মোঃ -৯০০৭০৩৫৬৯১