শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
শামীম ইমাম এর একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
শামীম ইমাম এর একগুচ্ছ কবিতা
ব্যস্ত শহরে
ব্যস্ত এই শহরে, হাজার মানুষের ভীড়ে,
কেউ খুঁজে প্রিয় মুখ, কেউ লুকায় নিজেরে।
নিঃশব্দে নিরবে খুঁজে ফিরে কেউ যারে,
হয় না তো দেখা আর, পায় না তো কাছে তারে;
পুরানো সেই মাঠগুলো ভবনেতে গেছে ভরে,
চেনা জানা পথগুলো হারালো যে কোন দূরে!
ব্যস্ত এই শহরে, হাজার মানুষের ভীড়ে,
কেউ খুঁজে প্রিয় মুখ, কেউ লুকায় নিজেরে।
পার্কের বেঞ্চিতে আজও কেউ এসে বসে,
হকারের হাঁকডাক আজও কানে ভেসে আসে,
গাছগুলো আজও আছে, ছায়া ঠিকই দিয়ে যায়,
খাবারের খুঁজে আজও ফিঙেরা নাচে সেথায়;
‘চা গরম’ — বলে সুরে আজও কেউ হেঁকে যায়,
চানাচুর বাদামের গন্ধটা আজও ঠিক পাওয়া যায়,
বকুলের গন্ধটা ঠিকই নাকে ছুঁয়ে যায়;
যারে খুঁজে ফিরে চোখ, তার শুধু দেখা নাই!
ব্যস্ত এই শহরে, হাজার মানুষের ভীড়ে,
কেউ খুঁজে প্রিয় মুখ, কেউ লুকায় নিজেরে।।
এই শহর আমার নয়
এই শহর আমার নয়,
এই শহর এখন রাজন্যের, রাজ-বণিকের;
যারা প্রেম প্রেম খেলে, কপট দরদী সাজে,
যাদের মুখে ভালবাসার আড়ালে লোভের লালা ঝরে,
এই শহর তাদের!
এই শহর আর আমাদের নেই,
এই শহর এখন স্বপ্ন বিক্রেতা আর রাজ-কারবারির;
যাদের হাতে সুখ-স্বপ্নগুলো গচ্ছিত রেখেছিলাম বড় আশা করে,
্একদিন আরও বেশী ফেরত পাবো বলে;
ফেরত পায়নি কিছু তার, বিক্রি হয়ে গেছে অজান্তে সব,
এখন সবই বিক্রেতার দখলে;
এই শহর এখন তাদের বিত্তের, বৈভবের।
এখানে হয় না তো ঠাঁই কোন বৃক্ষের, পুষ্পের,
এখানে নেই কোন মাটি, কিংবা কোন কোমলতা,
এখানে সবাই প্রেমিক সাজতে গিয়ে হন্তারক সাজে,
এই শহর শুধুই কঠিন ইট পাথরের।
এখানে প্রেম নেই,
আহ্! কি সুবিন্যস্ত সব প্রবঞ্চনার ফাঁদ!
এখানে ভালবাসার পদ্ম কিংবা গোলাপ ফুটে না এখন আর;
এখানে ফুলের গন্ধ বেঁচে নেই, যে টুকু আছে তাও মৃতপ্রায়,
এখানে বাঁচবার স্বপ্ন দেখাতে গিয়ে সবাই মিথ্যার ফাণুস উড়ায়:
এখানে পাথরের বুক চিড়ে জেগে উঠে শুধু কিছু অর্কিড,
গন্ধহীন কাটারা দখল নিয়েছে তার;
চলো পালাই,
সময় এখন এ শহর ছেড়ে পালাবার!
এই শহর আমার নয়, তোমারও নয়,
শহরটা এখন সব রাজ-বণিকের।
পথহারা পথিক
তোমাকে খুঁজিতে পথে নেমে দেখি, আজি পথই গিয়েছে হারিয়ে,
জানি না আমি কিভাবে কখন ফিরবো তোমার দ্বারে।
উত্তরে যদি বাড়ায় পা, দক্ষিণে দেয় বাধা,
পূর্ব যেন মুখ ফিরিয়ে নেয়, পশ্চিম আঁধার নামায় সদা;
ঈশান বলে থাম এবার তুই, মিছে খুুঁজিসনে আর,
পথের মাঝে যে পথ হারিয়েছে, তাকে খুঁজে পাওয়া ভার!
হয়তো সে পথ গিয়েছে হারিয়ে শূণ্য রেখার পাড়ে,
তবু আমি খুঁজি, বার বার খুঁজি, যদি খুঁজে ফিরে পাই তারে।
যদি আর না হয় ফেরা তোমার দ¦ার খোলা নীড়ে
যদি আমার এ শূণ্য তরী ভীড়তে না পারে-
তোমার নদীর তীরে,
যদি আর না হয় কথা তোমার আমার সনে,
দুঃখ করো না বন্ধু আমার, কষ্ট নিও না মনে।
দেখিতে যদি না পাও আমায় নয়নের সম্মুখে,
চোখের কোনায় রেখো না জল ধরে, দুঃখ ভরা বুকে;
সন্ধ্যা রাগের ক্ষণের শেষে দাঁড়িয়ে খোলা দ্বারে,
চোখ মেলে তখন দেখে নিও তুমি, আকাশের প্রান্তরে।
হয়তো তখন সন্ধ্যা তারা দিয়েছে উঁকি সবে,
হয়তো তখনও আকাশ ফুঁড়ে কালপুরুষ উঠেনি জেগে,
দখিণা হাওয়া দেয় যদি দোল তোমার শাড়ীর ভাজে,
জোছনার ঢেউ ভেঙ্গে যদি পড়ে তোমার তনুর মাঝে,
দুয়ারে দাঁড়ানো তোমারে দেখিয়া- লুব্ধক যদি উঠে হেসে,
ভাল করে তখন চোখ মেলে দেখো, ঐ দূর আকাশের বুকে,
আমারেও হয়তো দেখিতে পা’বে- কোন এক তারার সাজে।।