শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
ঋজু রেজওয়ান এর একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ ঈদসংখ্যা-২০২৬
ঋজু রেজওয়ান এর একগুচ্ছ কবিতা
(১)শুক্রাণু
চোখের ময়ূর পাতা ফেলে অভুক্তের চিবরে
অস্থির রাতের আমি—
পাণি পথে জল সেচি হ্যাংলা দানোৎসবে।
গুরু ভান্তের দেশনা, ঝরে মাটির রেকাবে…
অভুক্ত নারীর জঙ্ঘা শীৎকারে কেঁপে ওঠে।
ভগবানের ছায়া লুকোয় গর্ভে, দুধে, রক্তে!
ধ্যানের-ই দীর্ঘশ্বাসে…
বীর্যের ভেতর তার, মহাজাগতিক জ্যোতি!
কৌশিক দাঁড়িয়ে দেখে নৈকট্যে বেদনা—
বৃক্ষের একই ডালে প্রিয় কাম আর করুণা।
(২)মৃত্যুর ক্যাপচার
৯৮ এর অংশ আমি, তুমি— বাড়াতেই পার
১১৮! হয়ত বা আরও…
পার্টিকেল অ্যাক্সিলারেটরে অর্থপূর্ণ দুটিশব্দ
জন্ম ও মৃত্যুর—
সংঘর্ষ ঘটিয়ে…
যা-ই হতে চাও— শেষমেষ বুঝতে পারি না!
খুঁজে পাচ্ছ না! সময়— পরম এবং ধ্রুবক!
মানুষ— গতির
কাছে… প্রতিদিন
মৃত্যুর ক্যাপচারে-ই… খুলে রাখছে, অস্থির।
(৩)শ্রাবণ
উৎসর্গ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মন ভালো নেই, রবি— বাইশে শ্রাবণ মেঘে
আজ শুধু কান্না ঝরুক, বেগে নির্বেগে…
সেই মহাপ্রস্থানে জল গেছে সব ঝরে
নেই, বাকি আর কিছু। জল আসে টুপ করে।
মন কাঁদে জল পড়ে! চোখ ফোড়ে নুন রোদে
খুব মনে পায়— জীবনের প্রতি সংবেদে…
আজ ভালো নেই, কবি! বাইশে শ্রাবণ দোরে
মৃত্যু, সে কাল আজও ভুলছি না, মন পোড়ে।
কাল, কালান্তর— রহো রাজ, হৃদয়ের পালে।
(৪)সূর্য দীঘল বাড়ি
রাত কালা হয়া গ্যালে ব্লাক রোজ হাতে
সোনালু লতায় ঝুলে থাকে…
থোকা থোকা ভুল
টিনের পুরোনো চাল, সবটুকু অন্ধকারে
রসুইঘরের পাশ দিয়ে…
হেঁটে হেঁটে নেমে যায়, চৈত্রের মেহগনি
তবু বসে আছি একা
পাটখড়ির বেড়ায় লতানো শীমের বীজে
একান্তে ঘুমিয়ে আছে…
‘সূর্য দীঘল বাড়ি’
(৫)রাতের মহারানি
সিংহের বাহনে— দুটি ডানায় উড়ছে থিরথির
পাখির আঙুলে পদ্মাবতীর অপ্সরা হুর।
রাত্রির পেচক-পেচকিরা
অনামিশা ভেদ করে… মা লক্ষ্মীর— আগমন:
যে, রাতের মহারানি।
হরপ্পায়— প্রজাপতি দ্বারে মহালক্ষ্মী।
আশীর্বাদের আলোয় ধানদূর্বামিষ্টি, রঙে…
ফুলে… মুক্তি পাক— মূক।
ঋজু রজেওয়ান হলেন একজন সমসাময়কি বাংলাদশেী কবি এবং লখেক, যিনি আধুনকি কাব্যশলৈী ও শব্দচয়নরে জন্য পরচিতি । তাঁর উল্লখেযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘জ্যা-মন নাচমিতি এবং জলপ্রহর’, ‘অন্তর [র্বতী] গণিতার √ফেরোমন’ এবং ‘বপ্রিতীপতা (ক্ট) হাইটকে বাই ফোকাল’ অন্যতম তাঁর কবতিায় নাগরকি জীবন, র্দশন ও রোমান্টকিতার সংমশ্রিণ পাওয়া যায় ।