শব্দকুঞ্জ বৈশাখি ও মে দিবস সংখ্যা
এলিজা খাতুন এর একগুচ্ছ কবিতা
শব্দকুঞ্জ বৈশাখি ও মে দিবস সংখ্যা
এলিজা খাতুন এর একগুচ্ছ কবিতা
অন্তরিত
বন্ধ জানালার ধুলো আর রিক্ততার সব অন্ধকার
ধামাচাপা দিতে একাদশির চাঁদ যথার্থ কিনা
সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি
অবিরাম বৃষ্টিপাত অনর্থ- এমন ভাবনা থেকে চিত্তকে
এক লহমায় টেনে নেয় প্রগাঢ় সবুজ সম্ভার; যদিও-
অরণ্যের সংসারে শেষাবধি প্রতিষ্ঠিত নতুন কাঠুরের ভাষা
স্বৈরশাসকের চূড়ান্ত কথার মতো
মৃত্যুই নিঃসঙ্গতার শেষ সঙ্গতি
অথচ কবিতার শেষ স্তবকে অন্তরিত প্রবলতার মতো
অযথা তাকিয়ে থাকে মেঘমাখা একরোখা চাঁদ
পরিবর্তনশীল
মগজ ছোটে
পাহাড় থেকে সমতল
অরণ্য থেকে মরুভূমি
বৃষ্টি থেকে খরা… কিংবা উল্টো প্রকারেও
দৃশ্যের রুপান্তরে দ্বিধাগ্রস্ত পদক্ষেপ, তবু ছোটা
ইদানিং বিচরণ বলতে-
দক্ষিণ জানালা থেকে হাসপাতালের কেবিন অব্দি
ন্যূনতম সীমানা অথচ কী বৃহৎ যুদ্ধক্ষেত্র!
কী ভয়াসক মসিাইল অন্ধকার!
অসুখে-বিষাদে রিক্তপ্রাণ, ঔষধের খোলসে বারুদগন্ধ
মনের বিনাশ গম নষ্টের মতো তো নয়; যে-
পিষে আটা করে দিলেই দাগ মিলিয়ে সাদা হয়ে উঠবে
অন্তবিহীন অন্ধকারে
ঘুমন্ত শহরে যার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ শোনে রাত
যার নির্ঘুমতা অন্ধকারে হাঁটে বিষাদের মতো
অন্ধকার দেখতে পায় না তাকে
অথচ বেড়াল পোষার মতো
অন্ধকারকে পুষে রাখে খোলা দুই চোখ
চোখের তারায় টলমল জল
মৃদু বাতাসে থরথর কাঁপা শস্যের মতো
অথচ দু’চোখ আগুন খরার দখলে
বিপন্নকাল
আজকাল ‘তফাৎ’ শব্দটি বড় বেশি অকার্যকর
ঠিক কিংবা ভুল ভাবনায়
অর্থবহ বা তুচ্ছতায়
সফল নয়তো ব্যর্থতার বাতাস
ভারী হতে হতে জমাট মেঘ হয়ে গেছে দেখে
সময় বড় শঙ্কায়
যদি তুমুল ধারায় ধুয়ে যেতে যেতে
অবিশ্বাস্য রকমের উন্মোচন ঘটে বিপন্নতার!
যদি মহড়ার সংলাপে অথবা
মিথ-মিথ্যের সংসারে অসজ্জিত কথপোকথনে
খেই হারিয়ে যায় মূল আলাপের!
ব্যাংকে বয়স্কভাতা গ্রহণের দিনে
অপেক্ষমান দীর্ঘ লাইন দেখে
কর্তব্যরত অফিসার দিশেহারা হয় যেভাবে
নিরলস মেঘেরা বাড়াতে থাকে জমাট জলের
পরিধি; পৃথিবীর অপেক্ষা-উপেক্ষাকে
নিদারুণ গোপন করার প্রয়াসে, অথবা
অবিরাম ধারায় ঝরে ঝরে সেসব ফাঁস করে দিতে